এ সম্পর্কে

কিতাবুন মুবিন পবিত্র কুরআনের একটি নাম বা সম্বোধন বা বৈশিষ্ঠ্য। এই নামে আমরা কুরআনের বিষয়ভিত্তিক তথ্য ভান্ডার উন্মুক্ত করেছি। সঙ্গে থাকুন

কুরআন মানব জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْم

পবিত্র কুরআনের সূরা ইউনুসের ৫৮ নম্বর আয়াতে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ঘোষণা করেছেন। 

قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ

“বল, ‘এটি আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়; সুতরাং এতেই তারা যেন আনন্দিত হয়। তারা যা পুঞ্জীভূত করে (দুনিয়ার যাবতীয় সম্পদ ও অর্জন), এটি তার চেয়ে উত্তম’।”

:এই আয়াতে ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া’ বলতে মূলত পবিত্র কুরআন এবং ইসলামের জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে। মানুষ দুনিয়াতে যত ধন-সম্পদ, জ্ঞান বা প্রযুক্তি অর্জন করুক না কেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এই কুরআনই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন এবং মানুষের জন্য প্রকৃত আনন্দের বিষয়।

এসো করআনের ছায়াতলে সমবেত হই

উপস্থাপনা
0
পাঠক
0

কুরআনের নির্ভুলতা সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ

কুরআনের একটি বিশেষ দিক হলো—এটি নিজেই তার সত্যতা ও নির্ভুলতা সম্পর্কে মানুষকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পৃথিবীর অন্য কোনো গ্রন্থে এমন সাহসী ঘোষণা দেখা যায় না, যেখানে লেখক নিজেই তার গ্রন্থকে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন:
وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ
“আর যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, যা আমি আমার বান্দার প্রতি নাযিল করেছি, তবে এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো।” (সূরা আল-বাকারা: ২৩)

এই চ্যালেঞ্জ শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং সকল যুগের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। এটি কুরআনের ভাষাগত, সাহিত্যিক ও ভাবগত অনন্যতার একটি শক্তিশালী প্রমাণ।


কুরআনের মতো একটি সূরা তৈরির অক্ষমতা

কুরআন আরও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, মানুষ ও জিন একত্রিত হলেও এর মতো কিছু তৈরি করতে পারবে না।

قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَىٰ أَن يَأْتُوا بِمِثْلِ هَـٰذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ
“বলুন, যদি মানুষ ও জিন একত্রিত হয় এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনতে, তবে তারা তার অনুরূপ আনতে পারবে না।” (সূরা আল-ইসরা: ৮৮)

এই ঘোষণা কুরআনের অলৌকিকতা (ই‘জাযুল কুরআন) প্রমাণ করে এবং মানবসৃষ্ট সাহিত্য থেকে এর পার্থক্যকে স্পষ্ট করে।


কুরআনের অবিকৃত সংরক্ষণ

ধর্মগ্রন্থ হিসেবে কুরআনের আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো—এটি এখন পর্যন্ত অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
“নিশ্চয়ই আমিই এই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।” (সূরা আল-হিজর: ৯)

এই প্রতিশ্রুতি কুরআনকে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে আলাদা করেছে। যুগে যুগে হাজার হাজার হাফেজের মুখস্থ, লিখিত সংরক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই সংরক্ষণ বাস্তব রূপ লাভ করেছে।


মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কুরআন

মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভিন্ন মত, মাযহাব ও চিন্তাধারা বিদ্যমান। কিন্তু একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো বিভেদ নেই—তা হলো কুরআনের প্রতি বিশ্বাস। এই একত্বই কুরআনকে মুসলিমদের ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

আল্লাহ বলেন:
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا
“তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)

 

এখানে “আল্লাহর রজ্জু” বলতে কুরআনকেই বোঝানো হয়েছে—যা মুসলিমদের ঐক্যের প্রধান মাধ্যম।

কর্মসূচী

আমাদের কুরআনিক কর্মসূচীতে আপনাকে স্বাগতম

কুরআন শুধু ব্যক্তি জীবনে নয় সমাজ জীবনেও চর্চার বিষয়। আমরা বিভিন্ন প্রজন্মকে তা স্মরণ করিয়ে দিতে এই উদ্যোগ